দেশের প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে : আইডিইবির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

8096 2018-09-15 TVET
Naima Yasmin

Naima Yasmin
Contributor

ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) তিন দিনব্যাপী ২২ তম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।

আজ শনিবার সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বেলুন এবং পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে ১১ টা ২০ মিনিটে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বমানের টেকনিক্যাল ভোকেশনাল এডুকেশন ট্রেইনিং। আজ এই সম্মেলন শুরু হয়ে চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

ছয় হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথি ও সদস্য প্রকৌশলী এতে অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন শেষে আইডিইবি ভবনের সামনে নির্মিত স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য এবং আইডিইবি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করেন।

এতে বলা হয়, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম ও ২০৪১ সালের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বাস্তবায়ন এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার করণীয় বিষয়সহ সদস্য প্রকৌশলীদের পেশাগত বিষয়ে সম্মেলনে আলোচনা ও সুপারিশ প্রণীত হবে।

অনুষ্ঠানে​ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। আর গ্রামে থেকেও যেন সবাই শহরের সুবিধা পেতে পারে সেলক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। উন্নয়নশীল দেশের যে যাত্রা শুরু হয়েছে তা এগিয়ে নিতে সবাইকে আরো নিবেদিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আইডিইবির ২২তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা সারা দেশে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বাড়িঘর, কারখানাসহ মাঠ পর্যায়ে সব ধরনের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করে থাকে। তাই সঠিক মান বজায় রেখে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কাজ করতে হবে। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। সেইসঙ্গে কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল এবং কলেজ আমরা প্রতিষ্ঠা করব। ইতিমধ্যেই ১০০টা কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমরা প্রতি উপজেলায় করে দেব। গ্রামের মানুষ—তারা নাগরিক সুবিধা পাবে, তারা সুন্দরভাবে বাঁচবে এবং গ্রামগুলোকে শহর হিসেবে গড়ে তোলা, সকল  কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সেখানে যাতে হয়, আমরা সেইভাবে পরিকল্পনা নিচ্ছি এবং সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আজকে গত সাড়ে নয় বছর ধরে কাজ করে বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত দুই মেয়াদের সরকারের প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তব রূপ পেয়েছে। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। আগামীতে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরে তিনি সরকারি চাকরিজীবীসহ সবাইকে কর্মক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১২৩ ভাগ বেতন বাড়াতে পারে কি না, আমার জানা নাই—কেউ পারে না। আমরা বেতন সেইভাবে বাড়িয়ে দিয়েছি। প্রত্যেকের কাজের সুযোগসুবিধা সৃষ্টি করে দিয়েছি। কাজেই কী পেলাম না পেলাম সেই চিন্তা না করে আগে দেশকে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের আগামী দিনের প্রজন্ম যেন সুন্দর জীবন পায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই, সেই ক্ষেত্রে সকলকে নিবেদিত প্রাণ করবার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। সাধারণত বর্ষাকালে বাংলাদেশে সব জিনিসের দাম বাড়ে। আল্লাহর রহমতে এবার আর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি। আগস্ট মাসের যে মূল্যস্ফীতি তা মাত্র ৫ দশমিক ৪ ভাগে আমরা নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। মূল্যস্ফীতি কম, প্রবৃদ্ধি বেশি—এই অর্থনীতির সুফল গ্রামবাংলার মানুষ পায়, সাধারণ মানুষ পায়। সেভাবেই আমরা দেশকে গড়ে তুলছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ২০২১ সালে দেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (টিভিইটি) বিষয়ক লিখা পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। চাকরি ও ক্যারিয়ার বিষয়ক আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিনঃ fb.com/engrjobs.bd 

  

Leave you comments here

  
Similar Post for You

Hotjobsbd সম্পর্কিত চাকরির তথ্য পেতে নিচের পেজে লাইক দিন

বিভাগসমুহ



Copyright © 2012-2017, Hotjobs. Developed by YOUTHFIREIT.