চাকরির সাক্ষাৎকারের বাস্তব অভিজ্ঞতা।

1682 2017-07-20 Career Tools
Naima Yasmin

Naima Yasmin
Contributor

চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে অনেকেরই হয় নানা অম্লমধুর অভিজ্ঞতা। আরাফাত শাহরিয়ারকে ভাইভা বোর্ডে মুখোমুখি হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশের টেরিটরি ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম

একটি কনসালট্যান্সি ফার্মে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দুই মাস পার্টটাইম চাকরির মাধ্যমে আমার চাকরিজীবন শুরু। এরপর ইউএনডিপিতে একটি প্রজেক্টের অধীনে ইন্টার্নশিপ করি। এরপর কাজ করি ম্যারিকো বাংলাদেশে টেরিটরি অফিসার হিসেবে। পরে একই পদে যোগ দিই গ্রামীণফোনে। এখন ইউনিলিভারে কর্মরত আছি। ইউএনডিপির ভাইভায় আমার কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। চাইল্ড পার্লামেন্টে ভলান্টিয়ার অর্গানাইজার ছিলাম। আমি কাজ করতে কতটা প্রস্তুত, ভলান্টিয়ার হিসেবে করা কাজগুলো কেমন ছিল, সেখানে কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল, আমার পারফরম্যান্স কেমন ছিল—এসব জানতে চাওয়া হয়েছিল।

সিভিতে ইউএনডিপিতে ইন্টার্ন করার ব্যাপারটা ছিল, তাই ম্যারিকোর ভাইভার বেশির ভাগ প্রশ্নই ছিল আমার ইউএনডিপির অভিজ্ঞতা নিয়ে। সিভিতে দেওয়া তথ্য ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রায় সব ভাইভা বোর্ডই প্রশ্ন করে থাকে। তাই আগের কাজের ব্যাপারে তথ্য ও মতামত আগে থেকেই গুছিয়ে রেখেছিলাম। আমি যা করেছি তা-ই বলেছি, মিথ্যা বা বাড়িয়ে বলার চেষ্টা করিনি। প্রতি ভাইভায় নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে বলা হয়। বাংলা ও ইংরেজিতে এটি আমি আগেই গুছিয়ে রেখেছিলাম। আমার নাম, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, পড়াশোনার পাশাপাশি ট্রেনিং, বিভিন্ন কোর্স, ডিপ্লোমা, পার্টটাইম চাকরিসহ যাবতীয় কো-কারিকুলার কাজকর্ম সম্পর্কে বলেছি। আমি আমার দক্ষতা ও দুর্বলতার জায়গা নিয়েও কথা বলেছি। নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে আমি কী কী কাজ বা চর্চা করছি, কতটা উন্নতি করেছি, সে সম্পর্কেও আলোকপাত করেছি।

ম্যারিকোতে দুইটি ভাইভা দিতে হয়েছিল। প্রথম ভাইভায় ছিলেন মানবসম্পদ বিভাগের একজন ব্যবস্থাপক। এর পরের ভাইভা বোর্ডে ছিলেন সেলস ডেভেলপমেন্ট হেড ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান। জানতে চাওয়া হয়েছিল, নিজ শহরের বাইরে কাজ করার জন্য আমি কতটা প্রস্তুত? তাঁরা বিভিন্ন সিচুয়েশন তৈরি করেছিলেন। বলা হয়েছিল, ‘ধরুন ঢাকার বাইরে দূরের কোনো জায়গায় পোস্টিং হলো। এতে আপনার আপত্তি আছে কি না?’ বলেছিলাম, পড়াশোনার জন্য বাসার বাইরে থেকে থেকে অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই ঢাকার বাইরে হলেও আমার চাকরিতে আপত্তি নেই। এ ধরনের প্রশ্ন করে প্রার্থী চাকরির প্রতি কেমন ধারণা পোষণ করছেন, কতটা আগ্রহী—এসব বিষয়ে ধারণা পান কর্মকর্তারা। একইভাবে তাঁরা অফিসের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছিলেন, এর মধ্যে আমি কিভাবে কাজ করব জানতে চেয়েছিলেন। উত্তরে বলেছিলাম, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ছিলাম। আমি হলের শেয়ার করে ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে অভ্যস্ত। আমার ছাত্রজীবন ও হলজীবনের কথা বলে তাঁদের নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম। আমার স্ট্রেন্থ, উইকনেস জানতে চেয়েছিলেন, যেটা আমি আগেই গুছিয়ে রেখেছিলাম।

গ্রামীণফোন আর ইউনিলিভারে ভাইভা দেওয়ার সময় আমি মোটামুটি এক্সপেরিয়েন্সড ছিলাম। এই ভাইভাগুলোতে আমার আগের কাজ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। যেমন—আমার কাজটা কেমন ছিল, আমি কম্পানির জন্য বাড়তি কিছু করেছি কি না, আমার আন্ডারে থাকা টিম কিভাবে ম্যানেজ করেছি, আমার পারফরম্যান্স কেমন ছিল, আমি কাজটা উপভোগ করেছি কি না ইত্যাদি। আমার আগের কাজ ও কর্মস্থলের ব্যাপারে পজিটিভ কথা বলেছি। আমি বাস্তবিক অর্থেই কাজগুলো উপভোগ করেছি, সেটা বোঝানোর জন্য উপযুক্ত উদাহরণ দিয়েছি।

সিনিয়র ও বন্ধুদের কাছে ভাইভা বোর্ডের অনেক অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। ইন্টারনেটে ভাইভার সাধারণ প্রশ্ন ও আদবকেতা সম্পর্কে অনেক ফিচার ও ভিডিও পাওয়া যায়। আমি সেগুলো দেখতাম। সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর মনে মনে গুছিয়ে রাখতাম। অনেক প্রশ্ন কমন পড়ে গেছে এসব থেকে। স্বাভাবিকভাবে ভাইভা ভালো হয়েছিল।

  

Leave you comments here

  
Similar Post for You

Hotjobsbd সম্পর্কিত চাকরির তথ্য পেতে নিচের পেজে লাইক দিন

বিভাগসমুহ



Copyright © 2012-2017, Hotjobs. Developed by YOUTHFIREIT.