অফিসে কেমন পোশাক পরবেন

2168 2017-07-14 Career Tools
Naima Yasmin

Naima Yasmin
Contributor

ক্যাম্পাসে নিত্য ঝাকানাকা পোশাক পরে আসত আফরিন। জংলা প্রিন্ট লেগিংসের সঙ্গে হয়তো চড়া কোনো রঙের লম্বা শার্ট। কোনো দিন পালাজ্জোর সঙ্গে কুর্তা। চুলগুলোতেও রঙের বাহার। ক্ষণে ক্ষণেই রং পরিবর্তন। গলার লকেটে কোনো দিন পেঁচা তো কোনো দিন হাতি। কানে বড় দুল। আঙুলে সাপের মতো প্যাঁচানো আংটি। ঠোঁটে কড়া লাল লিপস্টিক। হাতে ব্রেসলেট। চোখে বড় রোদচশমা।
আবীরের ছিল লম্বা কোঁকড়ানো চুল। কোনো দিন বেঁধে রাখত, তো কোনো দিন খোলা হাওয়ায় উড়ু উড়ু। আজিজ সুপার মার্কেটের টি-শার্ট গায়ে সাঁটানো থাকত। রংচটা জিনসের বাইরে অন্য কোনো পোশাকে তাকে দেখা গেছে কি না, বন্ধুরা মনেই করতে পারে না। মুখে বড় বড় দাড়ি, সবশেষ কবে শেভ করেছে সেটি ভেবে দেখতে হবে। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা মাতিয়ে রাখত। এক কথায় উড়াধুরা।
ক্যাম্পাসের রঙিন দিনগুলো পার করে আফরিন ও আবীর এখন পেশাজীবী। রোজ ৯টা-ছয়টা অফিস করতে হয়। নতুন জীবনে খাপ খাওয়াতে কিছু থতোমতো খাচ্ছে দুই বন্ধুই। কেমন হবে এই জীবনের পোশাক-পরিচ্ছদ? বর্ণময় পোশাকগুলো আলমারিবন্দি করে একঘেয়ে আনুষ্ঠানিক বা ফরমাল পোশাকই কি হবে নিত্যদিনের সঙ্গী? সেটারই বা কী কায়দাকানুন। ফরমাল পোশাক তো পরা হয়নি কোনো দিন। পেশাজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অফিসে কেমন পোশাক পরা উচিত।
মানবসম্পদ পরামর্শকরা বলেন, একজন নতুন কর্মীর উচিত হবে প্রথমেই অফিসের পরিবেশ বোঝার চেষ্টা করা। কর্পোরেট অফিস হলে তো ফরমাল পোশাক পরতেই হবে। যারা ক্যাসুয়াল পোশাক পরে অভ্যস্ত তাদের কর্মজীবনের শুরুতেই খুব ফরমাল বা খুব ক্যাজুয়াল কোনোটাই না, বরং মাঝামাঝি চলারই চেষ্টা করা উচিত। এতে তার অভ্যস্ত হওয়া সহজ হবে।
মিডিয়া ডটকমের পাবলিক রিলেশনস কো-অর্ডিনেটর রাগীব রায়হান বলেন, মিডিয়া সার্ভিসে কাজ করতে হলে কিন্তু ফরমাল পোশাক পরতে হয়, কারণ তারা নানা ধরনের গ্রাহকের সঙ্গে কাজ করেন। সার্ভিস অংশে আবার চলছে সেমি-ক্যাজুয়াল। সেসব বুঝেই পোশাক নির্বাচন করা উচিত। শুরুর কয়েকটা দিন নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুলে ধরাই নতুন কর্মীর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। নিজেকে একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হোক আগে, তারপর ফ্যাশনের ব্যাপারটা ভাবা যাবে। এমন কিছু তাই পরা উচিত নয়, যা অন্যদের কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়।
আজকাল কমিউনিকেশনস সেক্টরে ফরমাল পোশাকের চল কম। এখানে সেমি ক্যাজুয়ালই চলছে। এটুজেড কমিউনিকেশনসের পরিচালক শামীম জামান বলেন, অফিসের পরিবেশ যতই ঢিলেঢালা ধাঁচের হোক, খুব ঘরোয়া ধরনের পোশাক চাকরির শুরুর দিকে নতুন কর্মীদের না পরাই ভালো। পোশাকে রুচির ছাপটা থাকতেই হবে।
এডিসন গ্রুপের হিসাব বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা ফারিহা আনজুম বলেন, খুব চড়া ধাঁচের কিছু পরা ঠিক নয় অফিসে। যেমন লেগিংস প্রিন্টের না হয়ে একরঙা হওয়াই ভালো। সেটা সব সময় কালো না হলেও চলবে। তবে কেউ প্রিন্টের লেগিংস পরলেও কুর্তা বা শার্ট পরুক তাহলে একরঙা। প্রিন্টের পালাজ্জোর সঙ্গে পরতে পারে একরঙা লম্বা শার্ট। স্ট্রেচ প্যান্টও অফিসে বেশ আরামদায়ক। কিছু পোশাক সংগ্রহে থাকলে ভালো বলে মনে করেন ফারিহা। সেগুলো হল কালো ফিটেড প্যান্ট, সেটা লিনেন বা সুতির তৈরি হতে পারে। বুট কাট ধাঁচের বা চাপা-দুটি স্টাইলই চলতে পারে প্যান্টের ক্ষেত্রে। বুট কাট প্যান্ট হলে টপ হতে পারে খাটো। আর চাপা প্যান্টের সঙ্গে পরতে পারেন লম্বা কুর্তা বা শার্ট। আর অফিসের কোনো পার্টি থাকলে মেয়েরা নিশ্চিন্তে পরে ফেলতে পারেন সুতি জামদানি শাড়ি। দেশি সিল্ক, তাঁতের শাড়িও ভালো। তবে ব্লাউজটা হওয়া চাই সাদামাটা ধাঁচের আর খুব খোলামেলা নয় এমন।
আল আরাফাহ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ডিভিশনের সিনিয়র অফিসার সাদ বিন মাহমুদ মনে করেন, পেশাজীবী ছেলেদের বিভিন্ন রঙের কয়েকটা শার্ট থাকা চাই। ফরমাল জুতা, টাই-এসবও চাই। কম বয়সী ছেলেরা এখন স্লিম স্টাইলের টাই পরছেন। একটা ব্লেজার আর খাকি, কালো ও গাঢ় নীল রঙের প্যান্টও থাকুক। এভাবে পোশাকের সংগ্রহটা গুছিয়ে ফেললে রোজ কী পরা হবে, তা নিয়ে আর তেমন ভাবনা থাকবে না।
ব্র্যাক ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খাদিজা মরিয়ম মেরী। কথা হল তার সঙ্গে। তার মতে কাজের জায়গার পোশাকটি হওয়া চাই পুরোদস্তুর আনুষ্ঠানিক, ছিমছাম কিন্তু ‘স্মার্ট’। মানুষের রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে পোশাক-পরিচ্ছদে। অফিসে এমন পোশাক পরা উচিত যা আপনাকে সম্মানিতবোধ করায়। মেরী জানান, তিনি অফিসে সব সময় লম্বা ব্লাউজের সঙ্গে সাধারণ শাড়ি পরেন। সালোয়ার-কামিজ তার কাছে ঠিক আনুষ্ঠানিক পোশাক বলে মনে হয় না। মাঝেমধ্যে বিশেষ করে প্রেজেন্টেশন থাকলে করপোরেট স্যুট এবং প্যান্টও পরেন। গয়নার মধ্যে সাধারণ নকশার মুক্তার মালা, কানে ছোট দুল, হাতে চিকন চুড়ি বা ব্রেসলেট এবং অন্য হাতে থাকে ঘড়ি। তিনি গরমে একদমই ম্যাকআপ নেন না। তবে শীতে হালকা মৌসুম উপযোগী ম্যাকআপ নিয়ে থাকেন।
এত সব পরামর্শ শুনে কি মনে হচ্ছে অফিসের জীবনটা একদম ফিকে হয়ে যাবে? তা নয়, ফ্যাশনেবল পোশাকের অভাব নেই এখন। অফিসের পোশাক ফরমাল তো হবেই, কিন্তু একঘেয়ে কখনোই নয়। বর্তমানে বিভিন্ন বিপণি বিতানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ক্যাজুয়াল আর ফরমাল দুই ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো থেকে মানানসই পোশাকটি একটু খুঁজে জোগাড় করতে হবে। মনে রাখতে হবে অফিস ড্রেস হবে রুচিসম্মত, পরিপাটি, মার্জিত ও মানানসই। এর ওপর আপনার ব্যক্তিত্ব অনেকাংশেই নির্ভর করে।

লেখকঃ এমএ রহমান

চাকরি ও ক্যারিয়ার বিষয়ক আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিনঃ fb.com/engrjobs.bd 

  

Leave you comments here

  
Similar Post for You

Hotjobsbd সম্পর্কিত চাকরির তথ্য পেতে নিচের পেজে লাইক দিন

বিভাগসমুহ



Copyright © 2012-2017, Hotjobs. Developed by YOUTHFIREIT.